বিশ্ববাজারে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়াতে চীনের নতুন উদ্যোগ

বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে নিজেদের মুদ্রা ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে তৎপরতা জোরদার করেছে চীন।

বেইজিংয়ের এ কৌশলী পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চীনের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখা। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক সাময়িকী ‘কিউশি’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি শক্তিশালী মুদ্রা ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাকে জাতীয় শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এ বার্তার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ানে লেনদেনের সুযোগ বাড়াচ্ছে বেইজিং। বিশেষ করে ব্রিকস জোটের দেশগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক আরো গভীর করার মাধ্যমে ডলারের বিকল্প একটি ব্যবস্থা দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান প্যান গংশোং সম্প্রতি জানান, বিশ্বের প্রভাবশালী মুদ্রাকে প্রায়ই রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই এ ডলার–নির্ভরতা কাটাতে তারা ডিজিটাল ইউয়ান (ই-ইউয়ান) ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ধরন দেখে চীন এখন নিজের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তবে ইউয়ানকে ডলারের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এখনো বড় ধরনের কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের প্রায় ৫৭ শতাংশই এখনো মার্কিন ডলারে। এর বিপরীতে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশের আশপাশে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র গবেষক ব্র্যাড সেটসার জানান, ইউয়ান বর্তমানে একটি গৌণ রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। একে ডলার বা ইউরোর প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে চীনকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশেষ করে চীনের কঠোর মূলধন নিয়ন্ত্রণ বা ক্যাপিটাল কন্ট্রোল এ যাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চীন তার দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণে তারা ইউয়ানকে পুরোপুরি মুক্তভাবে লেনদেনের সুযোগ দিতে ভয় পায়। ২০১৫ সালে একবার বাজার কিছুটা উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলেও পরে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কায় তারা পিছু হটেছিল। এছাড়া চীনে সুদের হার কম হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেই ইউয়ান খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। আপাতত রাশিয়া বা বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো ছাড়া অন্যান্য দেশ এখনো ডলার বা ইউরো ব্যবহারের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ডলারের পতন না হলেও ইউয়ান বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

আরও